Please wait...

বেফাক-এর অধীনে পরিচালিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষা সম্পর্কিত জরুরী জ্ঞাতব্য বিষয়সমূ

তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।
বেফাক-এর অধীনে পরিচালিত কেন্দ্রীয় পরীক্ষা সম্পর্কিত জরুরী জ্ঞাতব্য বিষয়সমূ

১. মাদরাসার দায়িত্ব হচ্ছে- মুহাররমের মাঝামাঝিতে পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা অনুযায়ী দফতরে বেফাক থেকে  নিবন্ধন ফরম চেয়ে নিয়ে প্রতিজন পরীক্ষার্থীর নাম পুরণ করিয়ে তা মারহালাওয়ারী সাজিয়ে ৩০ শে সফর-এর মধ্যে ফি-সহ বেফাক দফতরে পৌঁছে দিতে হয়।

২. জুমাদাল উলার শুরুতে পরীক্ষার্থীদের সংখ্যা অনুযায়ী দফতরে বেফাক থেকে পরীক্ষার্থী ফরম চেয়ে নিয়ে প্রতিজন পরীক্ষার্থীর নাম পুরণ করিয়ে তা মারহালাওয়ারী সাজিয়ে ১৫ই জুমাদাস সানীর মধ্যে ফি ও অন্যান্য চাঁদাসহ বেফাক দফতরে পৌঁছিয়ে দিতে হয়।

৩. ১৫ই রজবের মধ্যে প্রতি ছাত্রের নামে বেফাক থেকে বেতাকা (প্রবেশ পত্র) পাঠিয়ে দেয়া হয়।

৪. কেন্দ্রীয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি ইমতিহান কমিটি রয়েছে। এ কমিটিকে পরীক্ষার যাবতীয় কাজের জন্য তদারকী করতে হয়।

৫. পরীক্ষার প্রশ্নপত্রসমূহ যথোপযুক্ত হয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য প্রতি বছর একটি বাছাই (তাসহীহ) কমিটি গঠন করা হয়।

৬. যে সব মারহালার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, সেগুলো হচ্ছে- মারহালাতুত তাকমীলঃ

(দাওরায়ে হাদীস- মাষ্টার্স ডিগ্রী), আল-মারহালাতুল ফযীলাত (স্নাতক ডিগ্রী), আল মারহালাতুস সানাবিয়াতুল উলইয়া ঃ (উচ্চ মাধ্যমিক), আল মারাহালাতুল মুতাওয়াসসিতাহ্ঃ (নিম্ন মাধ্যমিক), হিফযুল কুরআন (হিফয সমাপনী), ইলমুত তাজবীদ ওয়াল কিরায়াত এবং ইবতিদাইয়্যাহ (৫ম শ্রেণী)। সব মারহালায় বৃত্তি/পুরস্কার প্রদানের নিয়ম রয়েছে।

৭. দরসিয়াতের প্রতি বিষয়ের পূর্ণমান = ১০০

৮.  ফলাফলের পরিভাষাসমূহ  :  মুমতায (বিশেষ বিভাগ/স্টারমার্ক) : ৮০% নম্বর, জায়্যিদ জিদ্দান (১ম বিভাগ) ঃ ৬৫% নম্বর, জায়্যিদ (২য় বিভাগ) ৫০% নম্বর, মাকবুল (৩য় বিভাগ) : ৩৫ নম্বর। রাসেব (ফেল) : ৩৫ নম্বর-এর কম হলে। হিফযুল কুরআন ও ইবতিদাইয়্যাহ নাযিরায় এ হিসাবের একটু ব্যতিক্রম রয়েছে। হিফয-মুমতায় (বিশেষ বিভাগ/স্টার মার্ক)  :  ১৭০, জায়্যিদ জিদ্দান (১ম বিভাগ) : ১৫০, জায়্যিদ (২য় বিভাগ) : ১২০, মাকবুল (৩য় বিভাগ) : ৯০। ইবতিদাইয়্যাহ (৫ম শ্রেণী) : মুমতায (বিশেষ বিভাগ/স্টার মার্ক) : ৫৬০, জায়্যিদ জিদ্দান (প্রথম বিভাগ) : ৪৫৫, জায়্যিদ (২য় বিভাগ) : ৩৫০, মাকবূল (৩য় বিভাগ) : ২৪৫।

৯. মারহালা সমূহের পরীক্ষার সর্বমোট নম্বরঃ

মারহালাতুত তাকমীল-১১০০ নম্বর, (তাজবীদের ১০০ নম্বরসহ) মারহালাতুল ফযীলাত ৮০০ নম্বর। মারহালাতুস সানাবিয়াতুল উল্ইয়্যা-৭০০ নম্বর, মারহালাতুল মুতাওয়াসসিতাহ-৭০০ নম্বর, হিফযুল কুরআন-২০০ নম্বর, ইলমুত তাজবীদ ওয়াল কিরায়াত-৩০০ নম্বর এবং মারহালাতুল ইবতিদাইয়্যাহ (৫ম শ্রেণী) ৭০০ নম্বর।

১০. রেয়াতী নম্বর (গ্রেছ) সর্বমোট অনুর্ধ ১০ নম্বর পর্যন্ত এবং যে কোন একটি মাত্র বিষয়ে এবং শুধু পাশের জন্য এ রেয়াতী নম্বর দেয়া হয়ে থাকে। যারা রেয়াতী নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়, তাদের কোন ডিভিশন দেয়া হয় না। নাজেরা ও হিফয (ইয়াদ ও তাজবীদ) বিষয়ে কোন রেয়াতী নম্বর নেই।

১১. প্রতি মারহালার কিতাব/বিষয়গুলোকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মি’ইয়ারী ও গর মি’ইয়ারী। প্রতি মারহালার মি’ইয়ারী কিতাবসমূহঃ

মারহালাতুত তাকমীলঃ

(১) বুখারী শরীফ ১ম জিলদ

(২) মুসলিম শরীফ ১ম জিলদ

(৩) তিরমিযী শরীফ ১ম জিলদ ও

(৪) আবূ দাউদ শরীফ মুকাম্মাল

মারহালাতুল ফযীলতঃ

(১) মিশকাত শরীফ ১ম জিলদ

(২) তাফসীরে বায়যাবী ও

(৩) শরহে আকাইদে নাসাফী।

আল মারহালাতুস সানাবিয়াতুল উল্ইয়াঃ

(১) মুখতাছারুল মাআনী

(২) নূরুল আনওয়ার (১ম অংশ) ও

(৩) মাকামাত।

আল মারহালাতুল মুতাওয়াস্সিতাহঃ

(১) নাহবে মীর

(২) পাঞ্জেগাঞ্জ/ইলমুস সরফ ও

(৩) রওযাতুল আদব।

আল মারহালাতুল ইবতিদাইয়্যাহ (৫ম শ্রেণী)

(১) বাংলা

(২) গণিত

(৩) উর্দূ ও

(৪) নাজিরা।

মারহালাতু হিফযিল কুরআনঃ

(১) তিলাওয়াত (ইয়াদ) ও

(২) তাজবীদ

মারহালাতু ইলমিত তাজবীদ ওয়াল ক্বিরায়াতঃ

(১) তারতীল ও

(২) হদর।

১২. মি’ইয়ারী একটির অধিক বা গর মি’ইয়ারী দুইটির অধিক বা মি’ইয়ারী ও গর মি’ইয়ারী মিলিয়ে দু’টির অধিক বিষয়ে (কিতাবে) কেউ ফেল করলে, কোন অবস্থাতেই তাকে পাশ বলে গণ্য করা হবে না। আর বুখারী শরীফ ১ম ও তিরমিজি শরীফ ১ম-এর একটিতে ফেল করলেও পাশ বলে গণ্য হবে না। বরং উক্ত ফেল করা কিতাবের পুনঃ পরীক্ষা দিতে হবে। এ পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। এ পরীক্ষায় পাশ করলে কেবল পাশ বলে গণ্য হবে।

১৩. বুখারী শরীফ ১ম ও তিরমিযী শরীফ ১ম ব্যতীত মি’ইয়ারী এক কিতাবে বা গর মি’ইয়ারী এক কিতাবে অথবা দুই কিতাবে বা মি’ইয়ারী এক কিতাবে ও গর মি’ইয়ারী এক কিতাবে ফেল করার পর গড়ে পাশের নম্বর থাকলে তাকে কেবল পাশ বলে গণ্য করা হবে, ডিভিশন পাবে না।

১৪. প্রতি বছর পরীক্ষার পূর্বক্ষণে নেগরানে আ’লাবৃন্দের (হল পরিচালকদের) প্রশিক্ষণ দানের ব্যবস্থা করা হয়।

১৫. পরীক্ষার পূর্বে পরীক্ষকবৃন্দেরও একটা ওয়ার্কশপ (কর্মশালা) অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। তারপর পরীক্ষার খাতা বণ্টন করা হয়।
১৬. ১লা রমযানের পূর্বে পরীক্ষকদের নিকট হতে খাতা ও নম্বরপত্র নিয়ে আসা হয়।

১৭. খাতা ও নম্বরপত্র আসার পর নিরীক্ষণ কমিটি নিরীক্ষণের কাজ আরম্ভ করেন।

১৮. ২৫ শে রমাযান পরীক্ষার প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়। মারকাযে ও মাদরাসায় ফলাফল পাঠিয়ে দেয়া হয়। সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে পত্রিকায় দেয়া হয় এবং দফতরে লটকিয়ে দেয়া হয়।

১৯. ফলাফলের উপর কারো কোন আপত্তি থাকলে তা পেশ করার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হয়। অতঃপর পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মাদরাসার তালিকা ও মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীদের নাম পুস্তকাকারে (গেজেট) প্রকাশ করা হয়।

২০. ফলাফলের ব্যাপারে অভিযোগ ও পুনঃ খাতা দেখার আবেদন পেশ করার জন্য ৩০ শে শাওয়াল পর্যন্ত মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বরাবরে দরখাস্ত পেশ করতে হয় এবং প্রতি খাতার জন্য সংশ্লিষ্ট মারহালার পরীক্ষার ফিসের সম পরিমাণ ফিস দাখিল করতে হয়।

২১. প্রতি মারহালা উত্তীর্ণদেরকে সনদ ও নম্বরপত্র (মার্কশীট) প্রদান করা হয়। সনদসমূহ মাদরাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। তবে মাদরাসায় পাঠাবার পূর্বে কারো সনদের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার মোহতামেম সাহেবের পত্র এবং নির্ধারিত ফরমে দরখাস্ত পেশ করতে হবে। সকল নম্বর পত্রের (মার্কশীটের) জন্য এবং ১৪০৬ হিজরীর পূর্বের সনদের জন্য এবং সাময়িক সনদের জন্য নির্ধারিত ফিস প্রদান করতে হয়।

২২. জামাআত খানার প্রতি ১৫০জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ১জন করে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ ধরা হয় ও পুরষ্কার প্রদান করা হয়। হিফযুল কুরআনের প্রত্যেক জোনের প্রথম তিনজনকে ও ইলমুত তাজবীদ ওয়াল ক্বিরায়াতের প্রথম তিনজনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

২৩. তাকমীল ও ইলমুত তাজবীদ ওয়াল ক্বিরায়াত মারহালা ব্যতীত সকল মারহালার মেধা তালিকায় উত্তীর্ণদের মুমতায হওয়ার শর্তে বৃত্তি দেয়া হয়।

২৪. প্রাইভেট পরীক্ষার নিয়ম ঃ কোন ছাত্র প্রাইভেটভাবে পরীক্ষা দিতে চাইলে বেফাকভুক্ত কোন মাদরাসার মাধ্যমে ‘প্রাইভেট’ নামে পরীক্ষা দিতে পারে।

২৫. প্রশ্নপত্র : মারকাযী ইমতিহানে ৫ম শ্রেণীর প্রশ্নপত্র বাংলায়, মুতাওয়াসসিতার প্রশ্নপত্র উর্দূ/বাংলায় এবং অন্যান্য মারহালার প্রশ্নপত্র আরবী ভাষায় হয়ে থাকে এবং উত্তর পত্র আরবী, উর্দূ ও বাংলার যে কোন একটি মাত্র ভাষায় সম্পূর্ণ জবাব লেখার অনুমতি রয়েছে। একই প্রশ্নের উত্তরে দুই ভাষার মিশ্রণ গ্রহণযোগ্য নয়।

২৬. ইবতিদাইয়্যাহ ব্যতীত অন্যান্য মারহালার প্রতি বিষয়ের প্রশ্নপত্র হয়ে থাকে ৫টি এবং এর যে কোন তিনটির উত্তর দিতে হয়। আর ইবতিদাইয়্যাহ মারহালায় ১০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।

২৭. প্রশ্নপত্র কাউকে পড়ে দেয়া হয় না। নিজেদেরকেই পড়ে বুঝে নিতে হয়। অবশ্য ছাপা ভুল হলে শুধু অক্ষরগুলো বাতলে দেয়া হয়। তবে ইবতিদাইয়্যাহ এর ব্যতিক্রম।

২৮. পরীক্ষায় যাতে কোন প্রকার দুর্নীতি না হয়, সে দিকে কড়া দৃষ্টি রাখা হয়।

২৯। জিমনী পরীক্ষা : যারা শুধু বুখারী শরীফ ১ম জিলদ বা তিরমিযী শরীফ ১ম জিলদ-এ ফেল করবে, তারা পরবর্তী পরীক্ষায় শুধু উক্ত কিতাবের পরীক্ষা দিতে পারবে। এ কিতাবে পাশ করলে পাশ বলে গণ্য হবে।
৩০. মানোন্নয়ন পরীক্ষা : কেউ ভাল নম্বর করার জন্য দ্বিতীয়বার পূর্ণ পরীক্ষা দিতে চাইলে দিতে পারবে।

বাংলা