Please wait...

মাওলানা আব্দুল জব্বার জাহানাবাদীর জীবন ও কর্ম

তারিখে প্রকাশিত হয়েছে।
মাওলানা আব্দুল জব্বার জাহানাবাদীর জীবন ও কর্ম

ত্যাগ ও নিরলস পরিশ্রম তার নামটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকবে চিরকাল। ৭৯ বছর বয়সী বয়োবৃদ্ধ মাওলানা আব্দুল জব্বার। জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি তিনি কাজে কর্মে ত্যাগ ও পরিশ্রমের উজ্বল নমুনা রেখে গেছেন। কর্ম মানুষকে বৃদ্ধ করে না এ চেতনা দিয়ে গেছেন মাওলানা আব্দুল জব্বার। একটি প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তুলতে ও এর মান অক্ষুণ রাখতে বয়োবৃদ্ধ জীবনেও রাজধানী থেকে সুদূর গায়ে গঞ্জে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। তিলে তিলে গড়ে তোলা তার এ স্বাপ্নিক প্রতিষ্ঠানের নাম বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ। মহাসচিব পদে থেকেও যিনি নিজের প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দুতে দাড় করিয়েছেন। বেসরকারি এ কওমী শিক্ষাবোর্ডকে নিয়ে গেছেন অনেক দূর। যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষারত শিক্ষার্থীরা আজ সরকার মহল থেকে দেশের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, গবেষকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
৭৯ বছর বয়সী মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সমস্যা, ডায়বেটিকস ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। ১৮ নভেম্বর ২০১৬ শুক্রবার ইহকাল ত্যাগ করেন, স্মৃতি-বিস্মৃতির অফুরন্ত এক কায়া রেখে গেলেন। তাঁর আত্মা দেহত্যাগ করে উর্ধ্বজগতে চলে গেলেও তিনি বেঁচে থাকবেন ততদিন যতদিন কওমি মাদরাসা বেঁচে থাকবে। তার অবদান স্বীকার করবে তালিবুল ইলমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম, যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী। তাকে স্মরণে রেখে জাতি কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা পাবে।
মাওলানা আবদুল জব্বার জাহানাবাদী ১৯৩৭ সালের বাগেরহাট জেলার কচুয়া থানার সহবতকাঠি গ্রামের সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা নাসিম উদ্দীন। তিনি ৫ ভাই এক বোনের মধ্যে ছিলেন দ্বিতীয়।
আবদুল জব্বার ১৯৬১ সালে দাওরায়ে হাদীস সমাপন করেন। তিনি ঢাকার বড়কাটরা মাদ্রাসায় শিক্ষকতাও করেন। পরে যাত্রাবাড়ী জামিয়া মাদানিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন এবং সেখানে কিছুদিন শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর, মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী, শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক, মাওলানা কাজী মুতাসিম বিল্লাহ রহ. প্রমুখ মনীষীগণ।
সাংসারিক জীবনে এ আলেম তিন মেয়ের জনক ছিলেন। তাঁর স্ত্রী, চার ভাই ও এক ও ১ বোন রয়েছেন।
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সুদীর্ঘ ৩৮ বছর যাবত। এর মাঝে তিনি বেফাকের বিভিন্ন পদে থেকে তিনি সুচারুপে তাঁর দায়িত্ব পালন করে গেছেন। সর্বশেষ তিনি বেফাকের মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।
মাওলানা আবদুল জব্বার মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি অনেক মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। অনেক মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি প্রতিবাদ করেছেন। সাধ্যনুযায়ী এর বিপক্ষে রাজপথে আন্দোলনও গড়ে তুলেছেন।
বেফাকের বাংলা বইয়ে তার রচিত বাচ্চাদের উপযোগী অনেক লেখা তিনি লিখেছেন। তার লিখিত অনেকগুলো সময়পোযুগি বইও প্রকাশিত হয়েছে, ১. ইসলাম ও আধুনিক প্রযুক্তি ২. মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ৩. ভারত উপমহাদেশে মুসলিম শাসন ও তাদের গৌরবময় ইতিহাস ৪. ইসলামে নারীর অধিকার ও পাশ্চাত্যের অধিকার বঞ্চিতা লাঞ্ছিতা নারী।
ব্যক্তিজীবনে তিনি একজন নিরঙ্কার মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে তিনি খুব অল্প সময়ে মিশে যেতে পারতেন। নম্র ও ভদ্র হিসেবে তার সুনাম ছিল।
তাঁর সামগ্রিক চিন্তা চেতনা, ধ্যান-জ্ঞান ছিল কওমি মাদরাসার উন্নতি, অগ্রগতি ও সাফল্য। কওমি মাদরাসা শিক্ষা সনদের স্বীকৃতি নিয়ে অনেক সময় অনেক জন কাজ করেছেন, কিন্তু সর্ব প্রথম বেফাকের সভাপতি আল্লামা নুরুদ্দীন আহমদ গহরপুরী রহ এর নির্দেশে স্বীকৃতি বিষয়ে তিনি কাজ শুরু করেন। কওমি মাদরাসার স্বীকৃতি আমরা কেন চাই নামে তিনি একটি পুস্তকও রচনা করেন। সরকারি দপ্তরে তিনিই সর্বপ্রথম কাগজ পত্র দাখিল করেন। বর্তমান প্রস্তাবিত কওমি সনদের সিলেবাস এটা তার হাতেই তৈরি। কওমি সনদের সরকারি স্বীকৃতির তিনিই ছিলেন প্রথম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।
‘বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’ নামটা উচ্চারণের সময় ভেসে ওঠে মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বারের মুখ। বেফাকের প্রতিটি মাটির কণায় তার অবদান রয়েছে। তাঁর আগলে রাখা প্রতিষ্ঠান বেফাকের অধীনে কিয়ামত অবধি জাতির সন্তানরা শিক্ষা অর্জন করবে।

সংগ্রহে : Naim Uddin

বাংলা